চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার বলেছেন, ‘শোন এরেস্টের ক্ষেত্রে অবশ্যই কেইস ডায়েরির কপি উপস্থাপন করতে হবে এবং তাতে গ্রেপ্তার দেখানোর উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। ঢালাওভাবে বা সন্দেহ বশবর্তী হয়ে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা যাবে না।’ সোমবার চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের উদ্যোগে আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত পুলিশ–ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলাম, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. সোয়েব খান, বিজ্ঞ স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) হামীমুন তানজীন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিক, মো. আলমগীর হোসেন, মোহাম্মদ মোস্তফা ও মুহাম্মদ আবুল মনছুর উপস্থিত ছিলেন।
সঞ্চালনায় ছিলেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সাত্তার। বক্তব্যে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার বলেন, শোন এরেস্টের ক্ষেত্রে অবশ্যই কেইস ডায়েরির কপি উপস্থাপন করতে হবে এবং তাতে গ্রেপ্তার দেখানোর উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। ঢালাওভাবে বা সন্দেহ বশবর্তী হয়ে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা যাবে না। তিনি বলেন, ভিকটিমকে পরীক্ষাকারী ডাক্তারের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারার অধীন জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করতে হবে। মেডিকেল অফিসারদের হোয়াটসআপ মোবাইল নম্বর উল্লেখ করারও নির্দেশ দেন। সঠিক সময়ে মেডিকেল সনদ সরবরাহের জন্য কমিটি বা বোর্ড গঠন করা যায় কিনা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালকের প্রতিনিধিকে নির্দেশ প্রদান করেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলন্স সিন্ডিকেট এর দৌরাত্ম্য বিলুপ্ত করে সেবাপ্রার্থীদের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এবং জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের জিম্মি করে কোনো সিন্ডিকেট চলতে দেওয়া হবে না। অসহায় সেবাপ্রার্থীদের পকেট কেটে যারা পৈশাচিক ব্যবসা করছে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসি যৌথভাবে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেবে। চমেক হাসপাতাল প্রাঙ্গণকে সিন্ডিকেটমুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমরা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করছি। সভায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, ডিসি (প্রসিকিউশন) মো. হাসান ইকবাল চৌধুরী, শিল্প পুলিশের সহকারী পুিিলশ সুপার বাচা মিয়া, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয়া সেন, এসি (প্রসিকিউশন) মো. আরিফ ইকবাল, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন, পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এস এম রফিকুল ইসলাম, সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি–দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইসরাফিল মজুমদার, এডিসি ট্রাফিক (বন্দর) মাসুদ রানা, এসি ট্রাফিক (নর্থ) কবির উদ্দিন সরকার, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এ রউফ, চমেক পরিচালকের প্রতিনিধি ডা. সাইফুল আলম, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড–এর আইন কর্মকর্তা মাসুম রেজা, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রোমানা আক্তার, র্যাবের প্রতিনিধি এএসপি নিজাম উদ্দিন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও কারা অধিদপ্তরের সিনিয়র জেল সুপার ও অন্যান্য অংশীজনসহ চট্টগ্রাম মহনগর এলাকার ১৬ থানার অফিসার ইন–চার্জ এবং পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ পরিদর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply