শিশির মাহমুদ
চট্টগ্রাম নগরের হাজারী গলিতে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য ও পুলিশের ছয় কনস্টেবলের ওপর এসিড হামলার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। ইসকনের (আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ) আট সদস্য যৌথ বাহিনীর ওপর সরাসরি ‘সালফিউরিক এডিস’ নিক্ষেপ করেন। এতে সহযোগিতা করেন ইসকনের আরও ১৮ অনুসারী। পুলিশ ইসকনকে জঙ্গি সংগঠন উল্লেখ করে আদালতে এসিড মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি অধিকাংশই হাজারী গলির স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও স্বর্ণের দোকানের কারিগর। এসিড হামলায় সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় গ্রেপ্তার ৪৬ আসামিকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের হত্যাচেষ্টা, কর্তব্যে বাধা দেওয়া, মারামারি করার অপরাধে ৬৮ জনকে অভিযুক্ত করে আলাদা দুটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তদন্তে সরাসরি এসিড হামলায় জড়িতরা হলেন হাজারী গলির স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও কারিগর গৌরাঙ্গ কুমার পাল, লিটন দাশ, রিপন ধর, পিন্টু ধর, অমিত দে, উম্মাশঙ্কর চক্রবর্তী, সমীর চৌধুরী ও রাতুল ধর। নিজ নিজ স্বর্ণ দোকান থেকে এসিড এনে পুলিশ ও সেনা সদস্যের ওপর এলোপাতাড়ি নিক্ষেপ করার প্রমাণ তুলে ধরা হয়। আসামিদের নিক্ষিপ্ত এসিডের আঘাতে পুলিশ কনস্টেবল সাঈদ, বিপ্লব, সায়েম, সাইফুল, নাহিম ও আশিকুরের শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে যায়। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য গুরুতর জখম হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইমাম হোসেন বলেন, তদন্তে কে কে এসিড নিক্ষেপ করেছেন, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এসিড হামলায় কারা সহযোগিতা করেছেন, তাদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অপরাধীর নাম উল্লেখ করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার আদালতে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এসিড নিক্ষেপে ১৮ আসামি সহযোগিতা করেছেন। তারা হলেন– জয়তোষ কুমার দে, রুবেল দাশ, পলাশ দে, প্রীতম দে, গোবিন্দ দাশ, রিমন দাশগুপ্ত, রাজীব বৈরাগী, অমল চন্দ্র বণিক, নন্দী, রাজীব চৌধুরী, রুবেল দত্ত, বিজয় চৌধুরী, অপি ধর, জুয়েল ধর, প্রসেনজিৎ, রাজেশ ধর, রুবেল দাশ ও পলাশ দে।
২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর হাজারী গলির ব্যবসায়ী ওসমান আলী ফেসবুকে ইসকনবিরোধী পোস্ট দেন। এর প্রতিবাদে ৫০০ থেকে ৬০০ সনাতন ধর্মের অনুসারী হাজারী গলিতে জড়ো হয়ে ওসমান ও তাঁর ভাইয়ের দোকানে আগুন দিতে উদ্যত হন। এ উত্তেজনার মধ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের ছয়টি টহল দল ওই এলাকায় পৌঁছে। এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা জুয়েলারি কাজে ব্যবহৃত এসিড নিক্ষেপ করেন যৌথ বাহিনীর সদস্যদের ওপর। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানার এসআই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা ও এসিড নিক্ষেপের অভিযোগে ৪৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
Leave a Reply