স্টাফ রিপোর্টার
শখের বসে গান করতেন। কখনো সন্ধ্যার পড়ন্ত বিকেলে দলবেঁধে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে, কখনো কলেজ ক্যাম্পাসে। অবসর সময় পেলেই ওরা মেতে ওঠতেন গান-আড্ডায়। একদিন হঠাৎ মাথায় এলো ব্যান্ডদল করলে কেমন হয়। হুট করে শুরু…। অল্প সময়েই ধরা দেয় পাহাড়সম সাফল্য। দিন যতই যাচ্ছে শহর-গ্রামে বাড়ছে জনপ্রিয়তার পারদ। এখন এ ব্যান্ডদলই আট শিক্ষার্থীর কাছে হয়ে ওঠেছে আয়ের মাধ্যমও। তাদের প্রতিটি গান ফেসবুকে সাড়া ফেলছে ব্যাপক। শহর থেকে অজপাড়া গ্রামের অনুষ্ঠানেও ঢাক পড়ছে। মাত্র এক বছরের চট্টগ্রামে অনলাইন ও অফলাইনে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের ভিন্নধারার ব্যান্ডদল ‘পরমেশ্বর’।
ব্যান্ডদল ‘পরমেশ্বর’ যেখানেই যাচ্ছে সেখানেই দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে তুলছেন প্রধান কণ্ঠশিল্পী অর্পূব দাশ। সে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের ডিগ্রী প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি মিরসরাই। ২০২৪ সাল থেকে থাকছেন চট্টগ্রাম শহরে। দুই বছর পরিবার থেকেই তার পড়াশোনাসহ সকল ব্যয়ের মাসের পুরো খরচ নিতেন। বছরখানেক ধরে আর পরিবার থেকে পড়াশোনার কোন খরচই নেন না অর্পূব। গান করে যা আয় করছেন তা দিয়েই মিটছে তার শহুরে যাপিতজীবনের ব্যয়। টিম লিডার অর্পূবের মতো আনোয়ারা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আদিত্য চক্রবর্তী ‘পরমেশ্বর’ ব্যান্ডের ড্রামার এবং ম্যানেজার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। একইভাবে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী ডেভিড সেন লিড গিটারিস্ট। শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়–য়া শিক্ষার্থী অন্তু দাশ পারকিউশিনস্ট, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগাং(ইউএসটিসি)এর অনার্স মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাহুল তালুকদার বেস গিটারিস্ট, ফটিকছড়ি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বর্ষণ আচার্য্য বাবু কী বোর্ডিস্ট, ওমরগনি এমইএইচ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী শুভজিৎ দে দ্বিতীয় লিড গিটারিস্ট এবং ইউএসসিটি’র সিএসআই বিভাগের শিক্ষার্থী অভ্রদীপ দাশ সাইড ভোকাল হিসেবে ‘পরমেশ্মর’কে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করছেন। নতুন নতুন গান সঙ্গীতাঙ্গণে তুলে ধরছেন। ২০২৫ সালে পরমেশ্বর সনাতনী ব্যান্ডের যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে তারা শহর ও গ্রামের অনুষ্ঠানে স্টেজ শো করতে শুরু করে। ফেসবুকে পরমেশ্বর ব্যান্ডের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে ১২ হাজার ফলোয়ার এবং প্রতিটি গানের ভিডিও- ভিউয়ারস মিলিয়ন মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।

‘পরমেশ্মর’র কণ্ঠশিল্পী অর্পূব দাশ বলেন, মজার ছলে গান করতে করতে আজ সত্যি একটি সম্পূর্ণ ভিন্নধারার ব্যান্ডদল হিসেবে দর্শক-শ্রোতাদের মনে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমরা অনেকগুলো লাইভ কনর্সাট করেছি। দর্শকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া পাচ্ছি। আমাদের এ আয় দিয়ে নিজেদের খরচ মেটানোর পাশাপাশি অসহায়, গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের সহযোগিতা করতে শুরু করেছি। কারণ আমরা শিক্ষার্থীরাই জানি পড়াশোনা করতে গ্রাম ও শহরের গরীব শিক্ষার্থীদের কতটা কষ্ট করতে হয়। যতদিন মানুষ চাইবে ততদিন আমরা গান গেয়ে মানুষের মন জয় করে যাবো।
ইউএসটিসি’র অনার্স মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী বেস গিটারিস্ট রাহুল তালুকদার বলেন, কখনো ভাবিনি ব্যান্ডদল করবো, সেখানে গিটারিস্ট হিসেবে শো করবো। এখন সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সবই করছি। তবে আমরা যেহেতু সবাই শিক্ষার্থী তাই সবার আগে পড়াশোনাকে প্রধান্য দিয়েই সঙ্গীতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
ব্যান্ডদল ‘পরমেশ্মর’ শাস্ত্রীয় গম্ভীরতা ও আধুনিকতার গতিময়তার এক অনন্য সংমিশ্রণে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। যেখানে সুর, তাল, যন্ত্রসঙ্গীত এবং কণ্ঠ একসাথে মিলে এক মোহময় পরিবেশ তৈরি করে যা দর্শক উপভোগ কওে যাচ্ছে। এ দলের শিল্পীরা সনাতনী মিউজিককে তাদের সঙ্গীতাঙ্গণে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। দেশের গানও তারা দর্শক-শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরছেন হৃদয়ছোয়া ভালোবাসা দিয়ে। তাদের গানের তালিকায় থাকা রক গানগুলোর মধ্যে অন্যতম, ‘জয় পরমেশ্বর’, ‘যাবো না.. যাবো না বাড়ি ফিরে যাবো না’, ‘এখনো সে বৃন্দাবনে’, ‘মধু মাখা কৃষ্ণ নাম একবার বল’, ‘এসো মা লক্ষী’, ‘জয় রাধে রাধে, কৃষ্ণ কৃষ্ণ’, ‘ও শিব নাচো রে’, ‘ও আমার দেশের মাটি’, ‘আমি বাংলায় গান গাই’…।
Leave a Reply