চট্টগ্রাম এক্সপ্রেক্স প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নগরীর গোসাইলডাঙ্গা এলাকায় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় সামিয়া জাহান তানিশা নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা অপর দুই তরুণ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ নিয়ে গত দেড় বছরে এ এক্সপ্রেসওয়েতে ১৬টি দুর্ঘটনায় ২০ জনের মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাড়িটিতে সামিন ও মিনহাজ নামে দুই তরুণ ও এক তরুণী ছিল। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নেওয়ার পথে সামিয়া জাহান তানিশা নামের ওই তরুণীর মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা একটি আইডি কার্ডে তার পরিচয় হাজেরা-তজু ডিগ্রি কলেজের স্নাতক অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী উল্লেখ রয়েছে। তাঁর বাবার নাম মো. আবু তালেব পাটোয়ারি এবং মা নাসিমা সুলতানা। এ ঘটনায় গাড়িচালক মিনহাজ আহত হয়েছেন। নিহত তানিশা নগরের রাহাত্তারপুল এলাকার ফুলগলি শাহ আমানত হাউসিং সোসাইটির বাসিন্দা। পতেঙ্গা থেকে লালখান বাজারমুখী দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার (চট্ট মেট্রো-গ ১১-৪০৩৪) বারিক বিল্ডিং সংলগ্ন এলাকায় এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে সজোরে আঘাত করে।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানার এসআই মো. নাজমুল জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গতির কারণেই চালক প্রাইভেট কারের নিয়ন্ত্রণ হারান এবং দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আহত তরুণের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে ক্ষতিগ্রস্থ প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে। প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায়ই চালকদের অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চালাতে দেখা যায়। যা অনেক সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে দুপুর ও সন্ধ্যার পর এক্সপ্রেসওয়েটি তুলনামূলক ফাঁকা থাকায় অনেক চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। তাই বারবার দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে।
Leave a Reply