চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে(৪৫) প্রকাশ্যে গুলি করে খুনের ঘটনায় আলোচিত সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হানসহ ১৯ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মামলার নথি আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ভিকটিমের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলাটি করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন-রায়হানের সহযোগী মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে ধামা ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম, মোহাম্মদ ইউসুফসহ ১১ জন। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরো আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, যুবদল নেতা খুনের ঘটনায় তার ভাই বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।
গত শনিবার দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। তিনি পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। তাঁর বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান। মাসুদুল আসন্ন ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাই প্রতিপক্ষ তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শনিবার চৌমুহনী বাজারে আসেন মাসুদুল। বাজারে ফুটপাতে দাড়ানো অবস্থায় পাঁচ থেকে সাতজন সন্ত্রাসী তাকে পরপর গুলি করে ঘটনাস্থলে মৃত্যু নিশ্চিত করে এলাকা ছাড়েন। বেতাগী থেকে আরেকটি অটোরিকশা তাঁকে অনুসরণ করেই বাজারে এসে খুন করেন। মাসুদুল অটোরিকশা থেকে নেমে বাজারের একটি ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়ান। এরপর অপর অটোরিকশা থেকে নেমে সন্ত্রাসীরা মাসুদুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলিতে মাসুদুলের মাথার মগজ বেরিয়ে যায়। পুলিশের ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে মাসদুলকে হত্যা করা হয়েছে। মামলার আসামি রায়হান চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তাঁর রিুদ্ধে নগর ও জেলায় খুনসহ নানা অভিযোগে ১৬টির মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
Leave a Reply