চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার সাজিনাস হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সাত ডাক্তারসহ আট জনের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম তৃতীয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেন এর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ভিকটিম শিশুর মা আমাতুল মাকনুন। নালিশি মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী, হাসপাতালটির সহযোগী কনসালটেন্ট (এনআইসিইউ) ডা. আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র কনসালটেন্ট(এনআইসিইউ) ডা. ফয়সাল আহমেদ, পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদ, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার সার্জন ডা. মিনহাজুল হাসান, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার সার্জন ডা. ফজলে মারুফ এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন ডা. তামিম সাফায়েত চৌধুরী।
বাদির আইনজীবী শুভাশীষ শর্মা বলেন, ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে ভিকটিম শিশু মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভিকটিম শিশুর মা আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন। আদালত শুনানি শেষে সিআইডিকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র স্পেশালিস্ট থেকে মতামত সংগ্রহ করতেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ২৫ মে চট্টগ্রামের সার্জিস্কোপ হাসপাতালে সি সেকশনে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন আমাতুল মাকনুন। নবজাতকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বায়েজিদ লিঙ্ক রোডস্থ সাজিনাস হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ভর্তির শুরুতে শ্বাসকষ্ট ছাড়া শিশুর শারীরিক অবস্থা অন্য সবদিক থেকে স্বাভাবিক ছিল। ৩০ মে বাদী(শিশুটির মা) দেখতে পান নবজাতকের বাম হাতে ব্যান্ডেজ করা। কর্তব্যরত চিকিৎসক বিষয়টিকে সামান্য বলে এড়িয়ে গেলেও পরদিন দেখা যায় শিশুর বাম হাতের তালু কালো হয়ে গেছে, আঙুলে পচন (গ্যাংগ্রিন) শুরু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে শিশুর শরীরে সংক্রমণ (ইনফেকশন) ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকার ইবনে সিনা ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, সাজিনাস হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুর বাম হাতে ভুল স্থানে আইভি ক্যানুলা করা এবং পরবর্তীতে ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে রক্তনালী কেটে ফেলায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ৪ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। এর আগে চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ এনে নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন ভুক্তভোগী মা আমাতুল মাকনুন। তখন অনেক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
Leave a Reply