আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছন আইনজীবীরা
চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
আগামী ১২ এপ্রিল চট্টগ্রাম কর আইনজীবী সমিতির ২০২৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের কাছে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কোন পদেই ফরম বিক্রি করেনি নির্বাচন কমিশন। গতকাল সোমবার নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম কিনার শেষ দিন ছিল। আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা ফরম কিনতে না পেরে নির্বাচন বর্জণের ঘোষণা দিয়েছেন। তাই বিনা ভোটে বিএনপি-জামায়াতপন্থীদের জয়লাভ এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। সমিতির কার্যকরী পরিষদের ৯ জন সদস্যসহ মোট পদের সংখ্যা ১৭টি।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালেও বিনা ভোটে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা জয়লাভ করেন। আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা ফরম নিলেও ফরম জমা দেওয়ার দিন মব সৃষ্টি করে ফরম জমা দিতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছিলেন আইনজীবীরা।

আওয়ামীপন্থী কর আইনজীবী নেতা সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন রাসেল বলেন, কাউকে না জানিয়েই ভোটের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। তা জেনে আমরা সভাপতি-সম্পাদকসহ সব পদে ফরম নিতে গিয়েছি। কিন্তু আমাদের কাছে নির্বাচন কমিশন ফরম বিক্রি করেননি। কমিশন একতরফাভাবে বিএনপি-জামায়াতপন্থীদের বিনাভোটে বিজয়ী করার পায়তারা করছে। তাই আমরা ভোট বর্জণের ঘোষণা দিয়েছে। এটি নির্বাচন নয়, নির্বাচনের নামে তামাশা করছে কমিশন।
কর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম ভুইয়া শিমুল বলেন, অতীতে সবসময় এখানে দুটি বড় প্যানেল ও একটি ছোট প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছে। এবার আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত হওয়ায় তাদের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে আইনজীবী সংগঠনের কার্যক্রমও স্থগিত। তাই স্থগিত হওয়া আইনজীবী সংগঠনের কাউকে নির্বাচনে আইনগতভাবে অংশগ্রহন করতে দেয়নি কমিশন। তাই হয়তো ফরম বিক্রি করেনি। বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ভালো বলতে পারবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এহতেশামুল আলম চৌধুরী পাপ্পু বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় তাদের সহযোগি ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রমও স্থগিত। তাই তাদের কাছে ফরম বিক্রি করা হয়নি। একটি বড় প্যানেল ও ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ ফরম নিয়েছেন। সেক্রেটারি পদে একজনই প্রার্থী।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ এএইচএম জিয়া উদ্দিন বলেন, কর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ইতিহাসে বিগত বছরের নির্বাচনের মত এবারও গনতন্ত্রের মুখোশধারীরা বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ ইচ্ছুক প্রার্থীদের ফরম নিতে দেয়নি। যা পেশাজীবীদের জন্য এক কলঙ্কিত অধ্যায় সৃষ্টি করল।
চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদস্থ সরকারি কার্যভবন-১ এ কর আইনজীবী সমিতির কার্যালয়। নির্বাচনে সর্বমোট ৩ হাজার ৯১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা রয়েছে।
Leave a Reply