নোটিশ :
আমাদের ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম... টিমি থিম, নিউজ পেপার থিম, ই-কমার্স থিম, কর্পোরেট থিম, স্কুল কলেজের থিমস কিনতে ভিজিট করুন www.themeneed.com  Themeneed.Com, Office :41/ Compact Bayazid square, Bayazid Bostami Rd, Nasirabad, Chaittagong, Mobile : 01310095939, 01859124823 Email : support@themeneed.com
সংবাদ শিরোনাম:
এনসিটি ও সিসিটি ইজারার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি/ চট্টগ্রামে প্রতীকী গণঅনশন বন্দর রক্ষা কমিটি প্রকৃতির রুদ্ররোষে মানুষ/পাহাড়ে পাহাড় ধসের ডাবল সেঞ্চুরি চট্টগ্রামে প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী আমিন/ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও খামারিদের বীজ, ভ্যাকসিন নিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে সরকার এনবিআরের সার্ভারে ঢুকে বন্দর থেকে মদ ও সিগারেটের চালান খালাসের চেষ্টা, মুল হোতা গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে অন্ডকোষে আঘাত করে দারোয়ান খুন/ মামলার চার ঘন্টার মধ্যে সাত আসামি গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন/ছেলে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়ে শহীদ হলো, অথচ দেশে বৈষম্য বাড়ছে- ওয়াসিমের বাবা চট্টগ্রামে ডিডিএন অফিস সন্ত্রাসী হামলায় অজ্ঞাত ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার নেই চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ মৌমিতাকে নিয়ে কুরুচিকর তথ্য প্রচার/ চট্টগ্রাম সাইবার আদালতে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা আগে যা ছিল ডোবা-পুকুর, এখন সেখানে চসিকের সিটি বাস টার্মিনাল চট্টগ্রামে ঝোপ থেকে পরিত্যাক্ত বিদেশী পিস্তল উদ্ধার
এনসিটি ও সিসিটি ইজারার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি/ চট্টগ্রামে প্রতীকী গণঅনশন বন্দর রক্ষা কমিটি

এনসিটি ও সিসিটি ইজারার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি/ চট্টগ্রামে প্রতীকী গণঅনশন বন্দর রক্ষা কমিটি

২২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় মশাল মিছিলের ঘোষণা
চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল(এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের সুস্পষ্ট ঘোষণা দাবিতে শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে প্রতীকী গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রামের বন্দর রক্ষা কমিটি। শনিবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন।
অনশন কর্মসূচি শেষে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার আগামী ২২ জুলাই (বুধবার) সন্ধ্যা ৬টায় চেরাগী পাহাড় মোড় থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত মশাল মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের কাছে আবারও জাতীয় সম্পদ রক্ষার দাবিতে জনগণের দৃঢ অবস্থান তুলে ধরা হবে।
গণঅনশন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু। বিকেল ৩টায় বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক আবুল মোমেন অংশগ্রহণকারীদের শরবত পান করিয়ে প্রতীকী গণঅনশন ভঙ্গ করান।
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি)-এর সাবেক সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সিবিএর সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি কমরেড অশোক সাহা, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, বিশিষ্ট কলামিস্ট কানাই দাস, ন্যাপ নেতা মিতুল দাসগুপ্ত, অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন মাহমুদ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, টিইউসি নেতা ইফতেখার কামাল খান, শ্রমিক দল নেতা শাহনেওয়াজ চৌধুরী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক সীতারা শামীম, জাতীয়াবাদী শ্রমিক দলের ইব্রাহীম ফরাজী, আজিজ উদ্দিন মিন্টু, যুব ইউনিয়নের নেতা মেহেদী হাসান মিন্টু, বন্দর শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম বাবু, বন্দর লেসিং-আনলেসিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইকবাল, হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. হানিফ, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আব্দুর রহিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
গণঅনশন ভঙ্গের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর কেবল একটি বন্দর নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। দেশের আমদানি-রপ্তানির সিংহভাগ এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই এই বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত সংবেদনশীল। জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে জনগণের মতামত, বিশেষজ্ঞদের অভিমত এবং সংসদীয় আলোচনার প্রয়োজন ছিল। জনগণকে অন্ধকারে রেখে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করতে হলে নিজস্ব জনবল, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। এতে বরং ভবিষ্যতে জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। জনগণের শান্তিপূর্ণ এই প্রতিবাদের প্রতি সরকার সম্মান জানাক। অবিলম্বে এনসিটি ও সিসিটি ইজারার প্রক্রিয়া বন্ধের সুস্পষ্ট ঘোষণা দিক।’
সিপিবির সাবেক সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, “জনগণের সম্পদ বিদেশি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য শুভ নয়।’
টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত বলেন, “বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের মতামত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকার অবিলম্বে এনসিটি ও সিসিটি ইজারার প্রক্রিয়া বন্ধের ঘোষণা না দিলে শ্রমিক সংগঠনগুলো বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করবে।”
চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সিবিএর সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, “লাভজনক এনসিটি ও সিসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বন্দরের উন্নয়নের প্রয়োজন হলে সরকার আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও জনবল উন্নয়নে বিনিয়োগ করুক।’
বক্তারা আরও বলেন, বন্দর রক্ষা কমিটির এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়; এটি দেশের স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবি মেনে নিয়ে ইজারার প্রক্রিয়া বন্ধের ঘোষণা দিন। অন্যথায় চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সমাবেশ শেষে বন্দর রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com