চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন বাতিল চেয়ে ও নতুন তফসিল ঘোষণার জন্য জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীদের আবেদনে হওয়া সমিতির তলবী সভায় তাদের প্রস্তাব কণ্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে নির্বাচন বাতিল চেয়ে জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবীদের সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’ এর পক্ষে করা মামলাটি বুধবার শুনানির জন্য ধার্য আছে।
এই পরিস্থিতিতে সমিতির নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা বলছেন, ভোট গ্রহণে কোন বাধা নেই। সমিতির ৯টি পদে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নেই। তবে বাকি ১২টি পদে ভোটগ্রহণ হবে।
বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন ‘জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম’ এর নেতাদের দাবি, তলবী সভায় প্রস্তাব নাকচ হওয়ায় ভোট গ্রহণে আর কোন বাধা নেই।
বিপরীতে জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’ নেতাদের দাবি, তারা ভোট বর্জনের ঘোষণায় অটল আছেন। আগামীকাল আদালত তাদের পক্ষে আদেশ দেবেন বলে তারা আশাবাদী।
এর আগে গত ৭ মে বাছাই শেষে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামীপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’।
ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক শামসুল আলম মঙ্গলবার রাতে বলেন, “নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়োগের মাধ্যমে পুনরায় তফসিল ঘোষণার জন্য সমিতির ১৬৬জন সদস্যের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে আইনজীবী সমিতির তলবী সভা আহ্বান করা হয়।”
মঙ্গলবার বিকেলে সমিতির মিলনায়তনে হওয়া তলবী সভায় সভাপতিত্ব করেন আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি ও বিএনপিপন্থী আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার।
সভায় তলবী সভার পক্ষে-বিপক্ষে আইনজীবীরা বক্তব্য রাখেন। পরে হাত তুলে ভোটাভুটি হয়। এতে তলবী সভার প্রস্তাবনার পক্ষে ১৭১ ভোট এবং বিপক্ষে ২৮৯ জন ভোট দেন। ফলে তলবী সভার প্রস্তাবনা নাকচ হয়।
আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি ও বিএনপিপন্থী আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার বলেন, “ভোটাভুটিতে তলবী সভার প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেছে। তারা নির্বাচন বাতিল চেয়ে একটি মামলা করেছেন। সেই মামলায় আগামীকাল শুনানির দিন ধার্য আছে। তলবী সভার ভোটের ফলের পর আশাকরি আদালত নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে আদেশ দেবেন।”
নির্বাচন বাতিল চেয়ে জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবীদের সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’ এর পক্ষে রোববার প্রথম যুগ্ম সিভিল জজ আরাফাতুল রাকিব এর আদালতে আটজন আইনজীবী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলাটি বুধবার শুনানির জন্য দিন ধার্য আছে। এই মামলায় নির্বাচন কমিশন ও এই কমিশন ঘোষিত তফসিল বাতিলের আবেদন জানানো হয়।
এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক শামসুল আলম বলেন, “আমরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা আগেই দিয়েছি। তারপরও আইন অনুসারে আদালতের দারস্থ হয়েছি। পাশাপাশি তলবী সভা আহ্বানের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। ৯টি পদে কোন প্রার্থীই নেই। গঠনতন্ত্র অনুসারে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে না পারায় এই নির্বাচন কমিশন অবৈধ। আমরা নতুন নির্বাচন কমিশন ও তফসিল চাই। আশাকরি আগামীকাল আদালত আমাদের আবেদনের পক্ষে রায় দিবেন।”
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা রৌশন আরা বেগম বলেন, “তলবী সভার প্রস্তাব নাকচ হয়েছে। নির্বাচন করতে এখন আর কোন বাধা নেই। ২১ মে সকাল ৯টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ হবে। সহ-সভাপতি ও ১১টি সদস্য পদে মোট ২৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বাকি ৯টি পদে একজন করে প্রার্থী আছেন। এবার প্রায় ৫ হাজার ভোটার ভোট দেবেন।
Leave a Reply