চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
রাত পোহালেই ভোট। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৩টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আলোচিত আসনে অঘটন ঘটনাতে পারে বলে আলোচনা তুঙ্গে। তার মধ্যে বেশি আলোচনায় রয়েছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ আসন। এ আসনে এলডিপির সভাপতি কর্ণেল অলি আহমেদ ছয়বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এবার এ আসনে ছেলে ওমর ফারুককে প্রার্থী করেছেন অলি। কিন্তু জীবদ্দশায় ছেলেকে এমপি বানিয়ে রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে চাইছিলেন তিনি। কিন্তু বিএনপির এক মাস্টারস্ট্রোকে নিজ দূর্গে পরাজয় বরণ করতে হতে পারে বলে প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এসব তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। কারণ অলির প্রথাগত ভোটাররা তার বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তিত অবস্থানের কারণে তার থেকে নিরবে সমর্থন প্রত্যাহার করেছেন। তাই এ ভরাডুবি হতে যাচ্ছে। অলির পড়ন্ত জীবদ্দশায় মধুর প্রতিশোধ নিতে যাচ্ছেন তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ, বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ। এ আসনে অলির দূর্গ ডুবিয়ে বিজয়ের হাসি হাসতে যাচ্ছেন ব্যবসায়ী জসিম।
একই ভাবে দ্বিতীয় অঘটন ঘটার আশংকা দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা আসনে। এ আসনে প্রথমবারের মতো বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সুন্নি জোটের মোমবাতির প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম শাহজাহানের । কারণ এ আসনে বিএনপির মধ্যে চরম গ্রুপিং এর কারণে সুন্নি জোটের কপাল খোলতে পারে। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থক, সংখ্যালঘু ভোট এ সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। এ আসনে সুন্নি জোটের প্রার্থী বিজয়ী হলে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ দলের কেউ সংসদে পা রাখতে যাচ্ছেন।
তারপর অপ্রত্যাশিত অঘটন ঘটাতে পারে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে। এখানে জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে হারিয়ে বিজয়ের হাসি হাসতে পারেন বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে তেমনি আভাস মিলছে।
একই রকম অবস্থা চট্টগ্রামের বাঁশখালী আসনে। এখানে বিএনপি, জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে চমক দেখাতে পারেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী লিয়াকত আলী চেয়ারম্যান। সংখ্যালঘু ভোট ও আওয়ামীলীগ ভোটের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের আশির্বাদ নিয়ামক ভুমিকা পালন করতে পারে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
সমতলের মতো পাহাড়ের খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির ওয়াদুদ ভূইয়াকে হারিয়ে জয় পেতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বৌদ্ধজোতি চাকমা। কারণ এখানে জামায়াতের প্রার্থী মুসলিম হওয়ায় মুসলিম ভোট ভাগাভাগিতে ফায়দা পাবেন এ পাহাড়ী প্রার্থী। সেই সঙ্গে পাহাড়ের প্রভাবশালী দুই সংগঠন জেএসএস ও ইউপিডিএফের সমর্থন যৌথভাবে তার দিকে থাকায় পাহাড়ী ভোট একজোট হলেই বাজিমাত করতে পারেন বৌদ্ধজোতি চাকমা।
Leave a Reply