শিশির মাহমুদ
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ৩৪ মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম প্রকাশ বার্মা সাইফুল তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়েছেন। পুলিশকে নাজেহাল ও গালমন্দ করেছেন। কেন পুলিশ নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখালো সে জন্য আদালতের দেওয়ালে মাথা ঠুকেন। সিএমপি কমিশনারের নাম উল্লেখ করে অশ্লীল কথাবার্তা বলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। বুধবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ কান্ড করেন পুলিশের খাতায় নাম থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী সাইফুল। তবে মামলার শুনানি শেষে তাকে দ্রুত আদালত থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তার অর্ধশত কর্মী আদালত চত্বরে মিছিল করেন।
সত্যতা নিশ্চিত করে আদালতে দায়িত্বরত পুলিশের এসআই মো. শাহজাহান বলেন, কারাগার থেকে সন্ত্রাসী সাইফুলকে নগরের চান্দগাঁও থানার একটি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। আদেশ দেওয়ার পরই সে পুলিশকে গালাগালি শুরু করেন। তদন্ত কর্মকর্তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। উধ্বর্তন পুলিশ কর্মকর্তাদের নামেও খারাপ কথা বলেন। আদালতের দেওয়ালে মাথা ঠুকার চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ তাকে দ্রুত আদালত থেকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।

কোর্ট পুলিশ জানায়, সে এখন আদালতে হাজিরা দিতে আসলেই পুলিশের সঙ্গে অশোভন আচরণ করছেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
১২ জানুয়ারি সাইফুল ইসলাম প্রকাশ বার্মা সাইফুল ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । পাঁচলাইশ থানার আতুরারডিপো এলাকায় সংঘটিত আলোচিত স্বর্ণের বার লুণ্ঠনের ঘটনায় তার বাহিনী জড়িত ছিলেন মামলা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের নিয়ে অবশিষ্ট স্বর্ণের বার উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় শিহাব উদ্দিনের হেফাজত থেকে লুণ্ঠনের ঘটনায় ব্যবহৃত একটি ইয়ামাহা আর-১৫ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। সাইফুলের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, প্রতারণা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অপহরণ, দস্যুতা, বিশেষ ক্ষমতা আইন, বিস্ফোরক আইন এবং মারামারি ও জখমসহ মোট ৩৪টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৭টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মুলতবি আছে। তাঁর সহযোগী শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধেও প্রতারণা ও দস্যুতাসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে।
Leave a Reply