চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
চট্টগ্রামে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের দুর্নীতি মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে এক দিনে ১০ জন সাক্ষ্য নিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এর আগে চট্টগ্রামে এক দিনে এক সঙ্গে ১০ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার নজির তেমন একটা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। আগামী ৫ মে মামলার পরবর্তী সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।
দুদক পিপি মোকাররম হোসাইন বলেন, সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের দুর্নীতি মামলায় মঙ্গলবার আদালতে ১০ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়। আদালতে তাঁদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত এই মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তিন আসামি জামিন চাইলে তাদের জামিন নামঞ্জুর করা হয়।
আইনজীবী চৌধুরী আবদুল্লাহ বলেন, চট্টগ্রাম আদালতে সাক্ষীর অভাবে বছরের পর বছর দুদকের বহু দুর্নীতি মামলার বিচার ঝুঁলে আছে। সেখানে একদিনে এক মামলায় ১০ জন সাক্ষী হাজির ও আদালতে সাক্ষ্যগ্রহন করার ঘটনাটি নতুন নজির সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম আদালতে। এভাবে প্রতিটি মামলায় দুদক ও আদালত গুরুত্ব দিয়ে বিচার করলে মানুষ দ্রুত ন্যায় বিচার পেতেন বলে মন্তব্য করেন এ আইনজীবী।
এরআগে গত ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন।
মামলার আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী ইউসিবিএল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী ও রোকসানা জামান চৌধুরী, ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম, জোনাইদ শফিক, অপরূপ চৌধুরী, তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান, ইউনুছ আহমদ, হাজী আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী এবং সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ, আবদুল হামিদ চৌধুরী, আবদুর রউফ চৌধুরী, জিয়াউল করিম খান, মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন ও বজল আহমেদ বাবুল প্রমুখ।
এদের মধ্যে জাবেদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিছবাহুল আলম, আরামিট গ্রুপের এজিএম উৎপল পাল ও প্রদীপ কুমার বিশ্বাস জামিন আবেদন করলেও না মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে নামসর্বস্ব ভিশন ট্রেডিং নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ তার কর্মচারীদের মাধ্যমে সেই টাকা উত্তোলন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি কিনে নেন। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ েেফব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
Leave a Reply