চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে আদালতপাড়ায় কালো পতাকা মিছিল এবং সমাবেশ করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা। বুধবার (২০ মে) বেলা দুইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম আদালত ভবন চত্বর ও আশপাশের এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ নিয়ে আদালত পাড়া বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জামায়াত সমর্থক আইনজীবীরাও পৃথক কর্মসূচি পালন করে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা ‘ভুয়া নির্বাচন’ ও ‘অটো নির্বাচন’ স্লোগান দিয়ে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানান এবং ‘ভোটবিহীন একতরফা নির্বাচন’ বর্জনের আহ্বান জানান বক্তারা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক চট্টগ্রাম মহানগর ও দায়রা জজ আদালতের সাবেক পিপি ও সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আয়ুব খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন ও বজলুর রশিদ মিন্টু, সাবেক পিপি মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীসহ কয়েকশ আইনজীবী।

বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ অংশ নেওয়া আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ দিদার উদ্দীন বলেন, সমিতির ১৩৩ বছরের ইতিহাসে কখনো ভোটবিহীন বা ‘অটো কমিটি’ গঠনের নজির ছিল না। অতীতেও, এমনকি করোনাকালেও, সমিতিতে সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও নির্বাচন কমিশন একটি ‘পাতানো ও তামাশার’ নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে, যা সমিতির ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ন করছে। জামায়াতপন্থী আইনজীবীরাও ইতোমধ্যে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। করোনাকালেও সমিতিতে সুষ্ঠু ভোট হয়েছে; কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশন সেই ঐতিহ্য নষ্ট করছে।
বিক্ষোভ ও সমাবেশের বিষয়ে সভাপতি পদপ্রার্থী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ বলেন, বর্তমান কমিটি জবরদখলের মাধ্যমে সমিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। অল্প কয়েকজন মিলে নিজেদের অনুগত নির্বাচন কমিশন গঠন করে নিজেরাই কমিটি ঘোষণা করেছে। আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গেলে আমাদের বাধা দেওয়া হয়। অথচ সাধারণ আইনজীবীদের বড় একটি অংশ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আমরা এক সপ্তাহ আগে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম। পরে একই সময় ও স্থানে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে আমাদের বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শত শত আইনজীবীর উপস্থিতিতে তারা টিকতে পারেনি। আদালত ভবন ঘিরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা হলেও আইনজীবীদের মধ্যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে পাতানো নির্বাচন আয়োজন করায় আইনজীবী সমিতি থেকে জামায়াত সমর্থক সাতজন নেতা গত পদত্যাগ করেছেন।
Leave a Reply