চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
চট্টগ্রামে আনিস নামে এক যুবকের টুকরো টুকরো লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ঘাতক নারী সুফিয়া আক্তার ও তার ভাই মুছাকে আসামি করে মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানার নির্দেশ দেন।
নগরের বায়েজিদ থানার সেকেন্ড অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, আনিস খুনের ঘটনায় দুই জনের নামে মামলা হয়েছে। দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
আনিসকে হত্যার পর লাশ গুম করতে কেটে টুকরো টুকরো করে নগরের খালে-ডাস্টবিনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকালে নগরের অক্সিজেন মোড়ের লোহারপুল শীতলঝর্ণা খাল থেকে ওই যুবকের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে রাতভর অভিযান চালিয়ে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শরীরের অন্যান্য অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মো. আনিস (৩৮) রাউজান উপজেলার চিকদাইর গ্রামের কবির আহম্মদের বাড়ির হায়দার আলীর ছেলে। স্বজনদের দাবি, এক নারীর সঙ্গে আনিসের বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। চিকিৎসার জন্য স্বজনদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্রায় তিন লাখ টাকা ওই নারীর কাছে জমা রেখেছিলেন। সেই টাকা চাইতে গেলে মনোমালিন্য শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করতে টুকরো টুকরো করা হয়। তবে ওই নারী পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, আনিস তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় ওই নারী, তার দুই ভাই এবং ভাতিজাকে আটক করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার পশ্চিম শহীদনগরের রংধনু গলি এলাকা থেকে পলিথিনে মোড়ানো বাহু থেকে বিচ্ছিন্ন দুইটি হাত উদ্ধার করে পুলিশ। হাতগুলোরে আঙ্গুলের ছাপ যাচাই করে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে ছবিসহ আনিসের নাম-ঠিকানা পাওয়ায় যায়। ঠিকানা অনুযায়ী আনিসের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই নারীর তথ্য পায় পুলিশ। ওই নারী এবং তার স্বজনদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা একপর্যায়ে আনিসকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে বায়েজিদের বিভিন্ন এলাকা থেকে আনিসের শরীরের টুকরো উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার বিকালে নগরের শীতল ঝর্ণা খাল থেকে তার মাথার অংশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
আনিসের স্বজনরা জানিয়েছেন, ওই নারী তাদের প্রতিবেশী একজনের স্ত্রী। তাদের একাধিক সন্তানও রয়েছে। আনিস একসময় সীতাকুন্ডের ভাটিয়ারি এলাকায় বড় ভাইয়ের সঙ্গে কসাইয়ের কাজ করতেন। বছরখানেক আগে গরু বেপারিদের টাকা না দিয়ে রাউজানে চলে আসেন। বছরখানেক ধরে তিনি নানা কাজ করতেন। এরমধ্যে ওই নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে উঠে। ওই নারী স্বামীকে ছেড়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানার শহীদ নগরে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। সেখানে যাতায়াত ছিল আনিসের।
আনিসের ভাগ্নি জামাই মো. সেলিম বলেন,‘শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন তিনি। চিকিৎসার জন্য স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। সেই টাকা ওই নারীর কাছে রেখেছিলেন। শুনেছি সেই টাকা চাইতে গেলে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরে লাশ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দিয়েছে। পুলিশ ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে লাশের টুকরোগুলো উদ্ধার করেছে।’
রাউজানের চিকদাইর ইউনিয়নের সদস্য মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন বলেন, ‘যে নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল সে নারী তার প্রতিবেশী একজনের স্ত্রী ছিল। তিনি স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি করে বাবার বাড়িতে চলে গেছেন। তার আগের স্বামীও আরেকটি বিয়ে করেছে। আনিসকে অক্সিজেন এলাকায় বিভিন্ন সময় দেখা গেলেও কোথায় থাকতেন তা তার পরিবারের লোকজনও জানতেন না। অক্সিজেন এলাকায় ওই নারীর বাবার বাড়ি। সেখানে যাতায়াত ছিল বলে শুনেছি।’ বায়েজিদ বোস্তামী থানার এসআই হারেস মোহাম্মদ কুসুম বলেন, ‘আনিসের শরীরের প্রায় সব অংশ পেয়েছি।
Leave a Reply