এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম শিল্পপতি স্মার্ট গ্রুপের মালিক মোস্তাফিজুর রহমানের বাসভবনে এসএমজি দিয়ে ব্রাশফায়ার করেন শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ বাহিনী। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর আট খুনের মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী রিমন ওরফে ইমনসহ তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে এসএমজি ও পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এসএমজিটি খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের থেকে তারা কিনেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার অস্ত্র আইনের মামলায় তিন আসামিকে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
নগরের পাঁচলাইশ থানায় দায়ের করা অস্ত্র মামলায় তিন আসামিকে সাতদিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মোহিদুল ইসলাম এর আদালত শুনানি শেষে এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপির)অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, সিএমপির চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ১০ মার্চ দিবাগত রাতে চকবাজার থানা পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী রিমন ওরফে ইমনকে গ্রেপ্তার করে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে চকবাজার থানা এলাকা থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত রিভলভার ও গুলি সিএমপির পাহাড়তলী থানা হতে লুণ্ঠিত হয়েছিল। আসামি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ইমন বহদ্দারহাটে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ৮ খুনের মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তার দেওয়া তথ্যে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ একটি ব্রাজিলিয়ান টরাস নাইন এম এম পিস্তল এবং একটি মোটর সাইকেলসহ আসামি মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার থেকে উদ্ধারকৃত বিদেশি পিস্তলটি সিএমপির ডবলমুরিং থানা হতে লুণ্ঠিত হওয়া। আসামি মনিরের দেওয়া তথ্যে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে তার সহযোগী সায়েমকে গ্রেপ্তার করা হয়। সায়েমের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে খুলশী থানা এলাকা থেকে একটি এসএমজি, দুইটি ম্যাগাজিন এবং ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এই অস্ত্র ও গুলি খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের নিকট থেকে কিনেছে মর্মে আসামী জিজ্ঞাসাবাদে জানায়। আসামি মনির ও সায়েমের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে ১০টি করে মামলার আসামি। আসামিরা সবাই শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। আসামি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর থেকে সাজ্জাদ গ্রুপের নতুন সদস্য রিক্রুট সংক্রান্ত পবিত্র কোরআন ধরে শপথ গ্রহণের একটি ভিডিও ক্লিপ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিরা প্রত্যেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের নির্দেশে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে। আসামি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সম্প্রতি চন্দনপুরায় ব্যবসায়ীর বাড়ীতে সংঘটিত গুলির ঘটনায় প্রধান পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী ছিল। সে পর্দার অন্তরালে থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের গ্রুপের অস্ত্রভান্ডার নিয়ন্ত্রণসহ সকল চাঁদাবাজি এবং খুনের মুখ্য পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী।
পুলিশ জানায়, তিনটি অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক পৃথকভাবে পাঁচলাইশ ও চকবাজার থানায় তিনটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে তিন জনকেই আসামি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ১ মার্চ সকালে চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরায় শিল্পপতির বাড়িতে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
Leave a Reply