চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, দুর্নীতির কী অবস্থা আপনারা জানেন। কী পরিমাণ লুট হয়েছে আপনারা জানেন। কী কারণে, কারণ হচ্ছে দুর্নীতি ঠেকানোর কোন পথ পদ্ধতিগতভাবে কিংবা প্রতিষ্ঠানিকভাবে করা হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনকে(দুদক) ব্যবহার করা হয়েছে বিরোধীদের দমন করতে। এটার নাম দুর্নীতি দমন কমিশন না রেখে বিরোধী দল দমন কমিশন বলাই ভালো। সরকারি দলের কোন জন কোটি কোটি টাকা পাচার করে দিয়েছেন। তাদের কোন খবর হয় না। কারণটা কী, কারণ দুর্নীতি দমন কমিশন এভাবেই নিয়োগ হয়েছে। এ সিস্টেম বদলাতে হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত করতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো: জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: কামাল উদ্দিন ও পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ। সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন প্রমুখ। সভায় ১ হাজার ২০০ ইমাম অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলী রিয়াজ আরো বলেন, বাংলাদেশে আগেও গণভোট হয়েছে। এবারের গণভোটে পার্থক্য আছে। এটা আমাদের বুঝা দরকার। ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট হবে। পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। সংসদ নির্বাচনে কাজের মানুষ কীনা, সৎ মানুষ কিনা, দলের বিবেচনায় ভোট দিয়ে একজনকে নির্বাচিত করবো। কিন্তু গণভোটে আমরা আসলে ব্যক্তিকে ভোট দেই না। অতীতে যখন গণভোট হয়েছে জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদের আমলে গণভোট হয়েছে- তখন বলা হয়েছে এটা হয়েছে আমাদের কর্মসূচি। এবার কিন্তু তা বলা হচ্ছে না। এবার গণভোটে কিন্তু হ্যাঁ ভোট দিলে অধ্যাপক ইউনুস আগামী ৩ বছর ক্ষমতায় থাকবে এটা বলা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে- ভবিষ্যতে দেশ চলার জন্য যে দলিল তৈরি হয়েছে সেই দলিল আপনারা গ্রহণ করছেন কিনা সেটার গণভোট হচ্ছে। ৩০টি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ৯ মাস ধরে আলাপ আলোচনা করে এ দলিল তৈরি করা হয়েছে। ১৩ কোটি ভোটারের সামেন উপস্থাপন করে সে দলিল তুলে ধরা হয়েছে। হ্যাঁ জয় যুক্ত হলে আগামীতে যে দল ক্ষমতায় আসে তারা তা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, কোটা না চাইলে, দিনের ভোট দিনে দিতে চাইলে হ্যাঁকে ভোট দিতে হবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর অবাধ ক্ষমতা হ্রাস করতে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে সকল রাজনৈতিক দল এক হয়েছে।
Leave a Reply