চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
প্রশাসনকে হুশিয়ারি দিয়ে হুকার দিলেন জঙ্গল সলিমপুরের বেতাজ বাদশা’ মো. ইয়াসিন। র্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. ইয়াসিন সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের নামে ঢালাও গ্রেপ্তার করা হলে পাবলিক বিস্ফোরণ ঘটবে বলে হুমকি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে এ হুমকি দিতে দেখা যায়। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরে তিনি প্রকাশ্যে এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘এসব ক্রাইমের ফান্দে পাড়া দিয়া কেউ যদি কোনো ঝামেলা করে, এতে কিন্তু বড় ধরনের পাবলিক বিস্ফোরণ ঘটবে।’ এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রায় আধঘণ্টার এ ভিডিওতে তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের জায়গা তাঁদের ক্রয় করা সম্পত্তি। সেখান থেকে তাঁদের কেউ উচ্ছেদ করতে পারবে না। এর আগে সাবেক এক জেলা প্রশাসক জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদ করতে গিয়ে নিজেই এখন উধাও হয়ে গেছেন। ইয়াসিন জঙ্গল সলিমপুরে সোমবার পরিচালিত র্যাবের অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তদন্ত করারও দাবি জানান। এ ছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (বহিষ্কৃত) রোকন উদ্দিনকে জঙ্গল সলিমপুরে অস্থিরতার জন্য দায়ী করেন। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মো. ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ১৫০ থেকে ২০০ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। নিহত মোতালেব হোসেন বিজিবি’র নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং প্রেষণে র্যাবে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে র্যাব-৭ এর একজন উপ-সহকারী পরিচালক বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- জাহিদ, ইউনুস ও আরিফ। এর মধ্যে দুইজন এজাহারভুক্ত এবং একজন তদন্তে পাওয়া আসামি।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, র্যাব সদস্যরা আসামি ধরতে গেলে তাঁদের ওপর সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় র্যাবের আটক করা এক আসামিকে। চার র্যাব সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যান আসামিরা। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় অভিযানের প্রক্রিয়া আঁচ করতে পেরেই আসামি ইয়াসিনের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার ৩ হাজার একর ভূমি রয়েছে জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়গুলোতে। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় দখল, অবৈধ বসতি এবং প্লট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সন্ত্রাসের জন্য আলোচিত। সরকারি খাস জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এলাকাটি সীতাকুণ্ড উপজেলায় হলেও নগরের খুব কাছেই। এর পূর্ব দিকে রয়েছে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ বোস্তামী থানা। জঙ্গল সলিমপুরে গত বছরের অক্টোবরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়। পরদিন সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলা ও মারধরের শিকার হন দুই সাংবাদিক।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে নগরের পতেঙ্গায় র্যাব-৭-এর কার্যালয়ে নায়েব সুবেদার মোতালেবের জানাজা শেষে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমান বলেছেন, নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে জুডিশিয়াল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। মামলার রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি র্যাব সার্বক্ষণিকভাবে মনিটর করবে।
Leave a Reply