চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
চট্টগ্রামে জাহাজ থেকে তেল খালাসের সময় প্রায় পৌনে ১৪ কোটি টাকার ক্রুড অয়েল উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় অভিযান চালিয়েছে দুদক। গতকাল রোববার দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ এমরানের নেতৃত্বে একটি টিম ইস্টার্ন রিফাইনারীতে গিয়ে নথিপত্র সংগ্রহ করেন। বিএসসি বলছে- কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গা ডলফিন জেটি থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির শোর ট্যাংকের দূরত্ব ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার। হিসাব মতে, কুতুবদিয়া অ্যাংকরে আসা জাহাজে যৌথ সার্ভেতে নির্ধারিত আলেজ (তৈলজাত পণ্যের তৈলাধারে ধারণ করা তেল) থেকে শোর ট্যাংকে দুই জাহাজের তেল খালাস করতে প্রায় পৌনে ১৪ কোটি টাকার ক্রুড অয়েলের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।
দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ পরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, সরকারি তেল খালাসের সময় ১৪ কোটি টাকার তেলের হিসাব না পাওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। তা খতিয়ে দেখতে একটি টিম তথ্য সংগ্রহ করেছে। নথিপত্র পর্যালোচনা করে দুদক প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ‘নরডিক ফ্রিডম’ ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশে আসে। চট্টড়্রাম বন্দরের তথ্য বলছে, জাহাজটি রাস আল খাইমা বন্দর থেকে ৯৯ হাজার ৮৯৩ টন ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) নিয়ে ওইদিন সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া অ্যাংকওে পৌঁছায়। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৪১ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে একই বছরের ২৪ মার্চ বাংলাদেশে আসে ‘নরডিক স্কিয়ার’ নামের জাহাজটিও। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ দুটি থেকে খালাস করে ইস্টার্ন রিফাইনারির (ইআরএল) শোর ট্যাংকে নিতে অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে ক্রুড অয়েল। জাহাজ দুটিতে বিএল পরিমাপে ২ লাখ ৯ হাজার ৫৮৪ দশমিক ০৯০ টন ক্রুড অয়েল ছিল। জেটিতে যুক্ত পাইপের মাধ্যমে ডিপো বা রিফাইনারির ট্যাংকে নেওয়ার পর শোর ট্যাংকে পরিমাপ করে পাওয়া যায় ২ লাখ ৭ হাজার ২২১ দশমিক ৯৪৬ টন।
Leave a Reply