চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম মহানগরের পাহাড়তলী থানা লুটপাট ও ভাংচুরের মামলায় ঘটনার সময় কারাগারে বন্দি থাকা এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা পুলিশের এসআই’কে কারণ দর্শাতে(শোকজ) করেছেন আদালত। নির্দোষ ব্যক্তি ইচ্ছা করে ফাঁসানোর চেস্টার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন আসামির আইনজীবী। পরে কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে আসামির কারাগারে থাকার তথ্য নিশ্চিত হলে আদালত পুলিশের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়। গত বুধবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদ সাত্তার এ আদেশ দিলেও এ তথ্য বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে আসে।
এ প্রসঙ্গে আসামির আইনজীবী নয়ন মণি দাস বলেন, চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে আসামি কারাবন্দি থাকার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত পুলিশের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন বাতিল করেছেন। একই সঙ্গে আবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে শোকজ করে কারণ ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
পাহাড়তলী থানার এসআই আরিফুজ্জামান খান বলেন, এক আসামি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা ব্যক্তির নাম বলেছিলেন। যে আসামি ঘটনার সময় কারাগারে ছিলেন এটা ওই আসামি বলেননি। যথাযথভাবে যাচাই করার সুযোগ পাওয়া যায়নি। আদালত কারণ ব্যাখ্যার জবাব দেব।
আদালত সূত্র জানায়, নুর হোসেন নামের এক আসামি ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে নগরের আকবর শাহ থানার একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এ অবস্থায় পাহাড়তলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুজ্জামান খান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পাহাড়তলী থানায় হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের মামলায় নুর হোসেনকে জড়িত সন্দেহে চলতি মাসের ২২ জানুয়ারি আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। গত সোমবার এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য থাকলে আসামির আইনজীবী আদালতকে জানান, যে ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে, সে সময় নুর হোসেন কারাগারে ছিলেন। এরপর আদালত চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন চান এবং একই সঙ্গে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। পরদিন মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ আদালতে পাঠানো এক চিঠিতে জানান, নুর হোসেন নামের ওই বন্দী ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত সীতাকুন্ড থানার একটি মামলায় কারাগারে আটক ছিলেন। পরে ২২ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরের বছর ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে আসেন।
Leave a Reply