চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
৮৩ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন
গুরুতর অসুস্থ। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে তার পরিবার। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের গুরুতর অসুস্থতার খবর জানায় তাঁর পরিবার। তারা দেশবাসীর কাছে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া চেয়েছেন। এর আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।সংবাদ সাবস্ক্রিপশন
তাঁর পরিবার জানায় মঙ্গলবারের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে এবং ডাক্তারদের পরামর্শে তাঁকে ব্যাংককের
বুমরুনগ্রাদ আন্তর্জাতিক হাসপাতালে (Bumrungrad International Hospital) নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে স্কয়ার হাসপাতালের শ্বাসযন্ত্রের রোগ বা বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ নিবিড় চিকিৎসা চলছে।
এই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের দ্রুত আরোগ্য কামনায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন ১ নম্বর সেক্টরর সাব সেক্টর কমান্ডার। এরপর চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে ৭ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ বিভিন্ন সময়ে সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কার্যত রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই। ২০২৪ সালের আগস্টে গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর তাকে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে রাখে ইউনূস সরকার। প্রায় ১৩ থেকে ১৪টি মামলায় জামিন হওয়ার পরও নতুন নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের গুরুতর শারীরিক সমস্যা থাকায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ৩-৪বার দফা সরকারের কাছে তাঁর মুক্তির জন্য আর্জি জানিয়েও কোনো ফল মেলেনি! পরে কারা হাসপাতালেই তিনি জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে যান, মুমূর্ষ অসুস্থ অবস্থায় তাঁর জামিন হয়। এরপর থেকেই তিনি আরও দুর্বল হয়ে পড়েন। সম্প্রতি ছোট ভাইয়ের মৃত্যুতে তিনি ভেঙে পড়েন। অসুস্থ শরীর নিয়ে ভাইয়ের জানাজায়ও উপস্থিত হন।
তাঁর বড় সন্তান ব্যবসায়ী সাবেদুর রহমান সুমু সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে আব্বাকে হাসপাতালের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসকদের একটি বোর্ড গঠন করে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও গত ৩১ মার্চ আব্বা মিরসরাইয়ে গিয়ে তাঁর ছোট ভাই মোয়াজ্জেম হোসেন চেনু মিয়ার জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। এর পর থেকেই তাঁর শারীরিক দুর্বলতা বাড়তে থাকে। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় তাঁর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
Leave a Reply