চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নজর কেড়েছিলেন রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট নেতাদের পাঁচ ছেলে। তাদের মধ্যে দুইজন হোঁচট খেলেও চ্যালেঞ্জে উতরে গেছেন তিনজন। এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপির মনোনয়নে জয়লাভ করেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সিটি মেয়র মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের ছেলে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির টিকিটে জয়লাভ করেন প্রয়াত বিএনপি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান তূর্য্য। তবে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে হোঁচট খেয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে দলটির প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা এবং চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে এলডিপি প্রার্থী ওমর ফারুক।
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে জয়লাভ করে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তবে তারা বলছেন, বিদ্রোহী প্রার্থী কারণে কাঙ্ক্ষিত একটি আসন ফসকে গেছে। এটি হচ্ছে, চট্টগ্রাম-১৬ আসন। জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে মিশকাতুল ইসলাম পাপ্পাকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মো. লেয়াকত আলী আসনটিতে নির্বাচন করায় কপাল পুড়েছে পাপ্পার। ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আসনটিতে জামায়াত প্রার্থী জহিরুল ইসলাম ৮৯ হাজার ৯৬০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির পাপ্পা পেয়েছে ৮২ হাজার ২৩৭ ভোট। ৭ হাজার ৭২৩ ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি। লেয়াকত ভোট পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৭১ ভোট। লেয়াকত ও পাপ্পার ভোট যোগ করলে হয় এক লাখ ৩৭ হাজার ৩০৮ ভোট। ভোটের এই সংখ্যা থেকেই বোঝায় যায়, বিদ্রোহী লেয়াকতের কারণে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হয়ে গেছে পাপ্পার।
বাঁশখালীতে বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা লেয়াকত আলীর। তিনি দলের মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। প্রাপ্ত ভোটে অনুমান করা যায় তার জনপ্রিয়তার বিষয়টি।
এদিকে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাইদ আল নোমান পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বিদ্ব জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালী পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট। চট্টগ্রাম-৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী পেয়েছেন এক লাখ এক হাজার ৪৪৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ডা. এটিএম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট। এক লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৫ ভোট পেয়ে পেয়েছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১১ দলের শরীক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী নাছির উদ্দিন মুনির পেয়েছেন ৪৪ হাজার ভোট।
নির্বাচনে জয়লাভ করা বিএনপির নেতাদের উত্তরসূরি মীর হেলাল, সাঈদ আল নোমান ও হুম্মাম কাদের চৌধুরী জানিয়েছেন, তাদের বাবা রাজনীতির মাধ্যমে এলাকার মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তাদের সেই অর্জন ভোটের মাঠে কাজে লেগেছে। আবার তারা অভিভাবকের পথ ধরে এলাকার মানুষের সুখে-দুখে আছেন। এটা তাদের ওপর মানুষের আস্থা ও নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতেও তারা এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যেতে চান বলে জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply