চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সাব-রেজিস্ট্রি দপ্তরের মাহফুজুর রহমান নামে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা রয়েছে। মাহফুজুর বর্তমানে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত। সেই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হয়েও বছরের পর বছর সরকারি দপ্তরে বহাল তবিয়তে চাকরি করে যাচ্ছেন তিনি। মামলায় মাহফুজুর রহমানের স্ত্রী দিলুয়ারা মাহফুজকে প্রধান আসামি করা হয়। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর নিজের স্ত্রীর নামে কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ভিত্তিতে মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী দিলুয়ারা মাহফুজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২–এর উপসহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মাহফুজ দম্পতির এক কোটি ৭ লাখ ২ হাজার ৭৪৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ২১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন তারা। এ অভিযোগে দুদক আইনের ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী দিলুয়ারা মাহফুজের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলা হওয়ার সময় মাহফুজুর রহমান চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে দুদকের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ার পরও আদালত থেকে জামিন না নিয়ে তিনি বদলি হয়ে একই জেলার চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়ীয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে কর্মরত রয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক চট্টগ্রাম-২–এর উপসহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ বলেন, মামলার এফআইআর আদালতে জমা হলেই আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়।’ মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্টার জামিল রহমান বলেন, তদবির করে প্রমোশনাল বদলির খবর সম্পর্কে তার কাছে কোনো তথ্য নেই বলে তিনি জানান।
Leave a Reply