চট্টগ্রাম কারাগারে প্রাপ্ত বয়স্কদের সঙ্গে সাজাভোগ করছে দুই কিশোর!
শিশির মাহমুদ
চট্টগ্রামে দাখিল পড়–য়া কিশোর শিক্ষার্থীকে প্রাপ্ত বয়ষ্ক দেখিয়ে আদালতে চালান করে বায়েজিদ থানা পুলিশ। আদালত পুলিশ রেকর্ড দেখে দুই কিশোরকে ১৫ দিন করে কারাদন্ড দিয়ে চট্টগ্রাম কারাগারে পাঠায়। আদালতে জমা দেওয়া রেকর্ডে পুলিশ দুই কিশোরের বয়স ১৮ বছর দেখালেও বাস্তবে তাদের বয়স ১৫ বছর ৩ মাস ও ১৫ বছর ৭ মাস। গতকাল সোমবার অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরদের জন্মনিবন্ধন ও বিদ্যালয়ের রেকর্ড আদালতে জমা দিয়ে জামিন ও প্রবেশন চাইলেও তা নামঞ্জুর করে আদালত। চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। ফলে দুই অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ওয়ার্ডে প্রাপ্ত বয়স্ক বন্দিদের সঙ্গে কারাভোগ করতে হচ্ছে।
এর আগে গত ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার এসআই সহিদুল ইসলাম দুই কিশোরকে প্রাপ্ত বয়স্ক দেখিয়ে আদালতে পাঠান।
দুই কিশোরের আইনজীবী সৌরভ চৌধুরী জানান, ১০ জানুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় পুলিশ দুই কিশোরকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসে। মাননীয় বিচারক দুই কিশোরের বক্তব্য না শুনে খাস কামরায় বসে ১৫ দিন করে সাজা দেন। ১১ জানুয়ারি দুই আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর হওয়ার বিষয়টি অবগত করলেও আদালত আমাদের বক্তব্য আমলে নেয়নি। সোমবার অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় প্রবেশন চেয়ে আবেদন করলেও তা খারিজ করে দেয় চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালত। পুলিশের ভুলে আদালতের নির্দেশে দুই অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর বর্তমানে প্রাপ্ত বয়স্ক অপরাধীদের সঙ্গে আদালতে কারাভোগ করতে হচ্ছে। এতে কিশোরদের মানবাধিকার লঙ্গন হচ্ছে। কারণ কোনভাবেই বয়স্কদের সঙ্গে কারাগারে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরদের রাখার আইনী সুযোগ নেই।
বায়েজিদ থানার এসআই সহিদুল ইসলাম বলেন, দুই আসামিকে আটক করার পর তারা নিজেরাই বলেছে তাদের বয়স ১৮। তাই তাদের বয়স ১৮ উল্লেখ করেই আদালতে পাঠানো হয়েছে। এখানে পুলিশের কোন ভুল নেই। তাদের কোন ভয়ভীতি দেখানো হয়নি। ঘুষ নেওয়ার কথা বলা হলেও এ অভিযোগ সঠিক নয়।
ভিকটিমের মো. ইউসুফ বলেন, আমার ছেলেকে আটক করার পর ছাড়াতে ঘুষ নিয়েছেন। তারপরও তারা না ছেড়ে আদালতে চালান করে দেয়। আদালতে উকিল ধরার পর জানতে পারি আমার ছেলের বয়স ১৮ লিখেছে পুলিশ। ছোট ছোট দুইটা ছেলেকে দেখলেই বুঝা যায় তাদের বয়স কখনো ১৮ হতে পারে না। দুই দিন আদালতে ঘুরছি। বিচারকদের কাছে আবেদন করেও ন্যায়বিচার পাচ্ছি না।
আদালতে দাখিল করা ডুকমেন্টে দেখা যায়, এক কিশোর বায়েজিদ কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকার ১০ শ্রেনীর শিক্ষার্থী। তার রোল নম্বর ২১। জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী এ কিশোরের বর্তমান বয়স ১৫ বছর ৩ মাস। ২০১০ সালের ২০ অক্টোবর তার জন্ম হয়। অপর কিশোরও একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তার বর্তমান বয়স ১৫ বছর ৭ মাস।
পুলিশ জানায়, ৯ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটে বায়েজিদ থানার হিলভিউ ১ নম্বর রোডের মোড়ে পাকা রাস্তার উপর দুই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক কিশোরের প্যান্টে পকেট থেকে একটি ইলেকট্রিক শক পাওয়া যায়। এ নিয়ে তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় চট্টগ্রাম মহানগর আইনের ৮৮(ক) ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান দেওয়া হয়। পরে ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সাত্তারের আদালতে দুই অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরকে ১৫ দিন করে কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে পাঠায়। এখন চট্টগ্রাম কারাগারেই বন্দি রয়েছে দুই কিশোর।
মানবাদিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রিয়াদ বলেন, শিশু ও কিশোরকে কারাগারে রাখার কোন বিধান নেই। বিচারককে বিষয়টি জানানোর পরও প্রতিকার না পাওয়াটা দুঃখজনক। এখানে কিশোরদেও মানবাধিকার রক্ষা হচ্ছে না।
Leave a Reply