চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
চট্টগ্রামে ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের চার কর্মচারী এবং তাদের চাকরি স্থায়ীকরণে সহায়তাকারী চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। গতকাল সোমবার দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয় -১ এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুদকের মামলার আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের ড্রাইভার মো. খালেদ মোশাররফ রিয়াজ, সুইপার স্বপন সরকার, দারোয়ান মোহাম্মদ ফরিদ আহমদ ও দারোয়ান মো. আলমগীর হোসাইন। সবাই ৮ম শ্রেণি পাশের ভুয়া প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার করে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছোন। এদের চাকরি পেতে সহায়তা করায় লক্ষ্মীপুর জেলার সাবেক এসআই মোহাম্মদ রফিক, চট্টগ্রাম জেলা বিশেষ শাখার সাবেক এএসআই মো. মনির হোসেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সাবেক এসআই (নিরস্ত্র) মো. আব্দুল বাতেন, গাইবান্ধা জেলা বিশেষ শাখার সাবেক ডিআইও মো. আতিকুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদনকালে তারা বিভিন্ন বিদ্যালয়ের নামে প্রত্যয়নপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানায় যে, এসব প্রত্যয়নপত্র ভুয়া এবং তাদের বিদ্যালয় থেকে ওই ব্যক্তিরা কখনো ৮ম শ্রেণি পাশ করেননি। চাকরিতে নিয়োগের পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে এসব কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী করা হয়। তবে ভেরিফিকেশনকারী পুলিশ কর্মকর্তারা দায়িত্বে অবহেলা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া সনদগুলোকে সঠিক উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এদের মধ্যে ভুয়া শিক্ষাগত সনদে চাকরি লাভ করে ২০২৫ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত বেতন-ভাতা বাবদ খালেদ মোশাররফ রিয়াজ ২৩ লাখ ৬২ হাজার, সুইপার স্বপন সরকার, দারোয়ান মোহাম্মদ ফরিদ আহমদ ও দারোয়ান মো. আলমগীর হোসাইন প্রত্যেকে ২১ লাখ ৩০ হাজার ৯৫৮ টাকা করে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ গ্রহন করে আত্মসাত করেছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জাল দলিল ব্যবহার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে দন্ডবধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
Leave a Reply