চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভের কাজের উদ্বোধন
চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের স্মরণে ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভ’ -এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরের ষোলশহর রেল স্টেশনের প্রবেশমুখে কাজের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। এ সময় ওয়াসিম আকরামের বাবা শামসুল আলম বলেন, ছেলে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়ে শহীদ হলো, অথচ দেশে বৈষম্য বাড়ছে।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ ওয়াসীম আকরামের বাবা শামসুল আলম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ও জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশে আর কোনোদিনও ফ্যাসিবাদী খুনি হাসিনা অথবা তার দলের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা হওয়ার সুযোগ নেই। যতদিন ছাত্র-জনতা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা জীবিত রয়েছেন, ততদিন স্বৈরাচারী শক্তির পুনর্বাসনের চেষ্টা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি জুলাই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত নির্দেশদাতা ও পালনকারী, সবাইকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, আজ ১৬ই জুলাই দিবস উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আজ আমি এসেছি সেই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করার লক্ষ্যে। আমরা একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার জন্য এই আন্দোলনটি গড়ে তুলেছিলাম। এখানে যাতে আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য আগামীতে গড়ে না ওঠে সেটার জন্য আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমি সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাব। এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য আমরা তা সংরক্ষণ করব।
সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘চলে আসুন ষোলশহর’ যে বার্তা দিয়েছিলেন সেটি কেবল একটি স্ট্যাটাস ছিল না। বরং তা ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করার জন্য একটি গণঅভ্যুত্থানের ডাক ছিল। আন্দোলনে আবু সাঈদের মৃত্যুর কিছুক্ষণ পরই শহীদ হন ওয়াসিম।
‘ছেলে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়ে শহীদ হলো, অথচ দেশে বৈষম্য বাড়ছে’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে প্রথম শাহাদাতবরণকারী ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শামসুল আলম বলেছেন, আমার ছেলে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন উৎসর্গ করেছে। অথচ এখন দেশে উল্টো বৈষম্য তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে। কোনো ধরনের বিভেদ বা বৈষম্য সৃষ্টি না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে শামিল হওয়ার আকুল আবেদন জানান তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরের ষোলশহর রেলস্টেশনের প্রবেশমুখে ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ জানান।
শহীদ ওয়াসিমের বাবা শামসুল আলম বলেন, ‘আজকে আমার হাজার সন্তান আমি দেখতে পাচ্ছি। এই যে, আমি যতদিন বেঁচে থাকি, আপনারা যতদিন বেঁচে থাকেন, এই চট্টগ্রামে এভাবে আপনাদেও দেখলে মনে হয়, আমি আমার ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে আছি। আমি কী বলে যে ভাষায় প্রকাশ করব, তা বুঝতে পারি না। চট্টগ্রামে আমার ছেলে আছে, যেকোনো জায়গায় আসলেই আমি আমার ছেলেকে দেখতে পাই। সেদিন পথসভায় একটা আয়োজন করা হয়েছিল। যাওয়ার সময় ওয়াসিমের ছবি যখন দেখি, আমি আর সামনে আগাতে পারিনি, চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। কিন্তু আজকে দেখি ওরা আর আমাদের মাঝে নাই। কেন নাই, আমি বুঝতে পারতেছি না। কীসের জন্য নাই, আমি এটাই বুঝতে পারতেছি না। আমার ছেলে দেশ থেকে বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু আমি দেখছি এখানে উল্টো বৈষম্য যোগ হয়েছে। আমি আকুল আবেদন করব, দয়া করে বৈষম্য যোগ করবেন না।
Leave a Reply