উন্মোচিত হলো ভয়ঙ্কর ডিজিটাল জালিয়াতি
চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
কাগজপত্র জালিয়াতিসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সার্ভারে অবৈধ ঢুকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণে মদ ও সিগারেট খালাসের চেষ্টাকারি জালিয়াত চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শেখ সেজান নামে এই জালিয়াতকারি জালিয়াতির মাধ্যমে ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ ও ৫০ লাখ শলাকা সিগারেট চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাসের চেষ্টা চালিয়ে ধরা পড়ে যায়। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম মেট্রোপালিটন পুলিশের(সিএমপি) পাঠানো এক বিজ্ঞপিত্তে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে ঢাকা হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নেপালে পালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
শেখ সেজান বড় ধরনরে জালিয়াতকারি চক্রের অন্যতম সদস্য। সরকারি বিভিন্ন জনসেবামূলক ওয়েবসাইট ক্লোনিং, জাতীয় পরিচয়পত্র, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, জন্মনিবন্ধন, টিকা সনদসহ বিভিন্ন সরকারি ডিজিটাল সেবা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণার সাথে জড়িত। মুলত তিনি ও তার চক্রের সদস্যরা সরকারি ওয়েবসাইটের অনুরূপ প্ল্যাটফর্ম তৈরি, নাগরিক তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থেকে প্রতারণামূলকভাবে সহজ সরল লোকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে করে আসছিলেন। ইতোপূর্বেও এই ধরনের অভিযোগে সিএমপি সিটি ও ডিএমপি সিটিটিসি টিম তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করেছিলেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপালিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি সূত্র জানায়, একটি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র চীন থেকে বন্ডের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় ফেব্রিক্স আমদানির মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে উচ্চশুল্কের অন্তত ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ আমদানি করে। ১০-১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এই চালান খালাস করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সার্ভার অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে অবৈধ অনুপ্রবেশমূলক একটি আন্তর্জাতিক চোরাচালানের চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এ ঘটনায় সিএমপির বন্দর থানায় দায়ের করা একটি মামলার ঘটনায় আগে ৭ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তকালে প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শেখ সেজানকে গ্রেপ্তার করা হলো। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সাইবার ক্রাইম ও প্রতারণা সংক্রান্ত ৭টি মামলা রয়েছে।
সিএমপির বন্দর থানার কাস্টমস সংক্রান্ত মামলা দুটির বিপরীতে এখন পর্যন্ত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ‘হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড’র পরিচালক ও চেয়ারম্যান খালেদ হোসেন মামুন ও বাকির হোসেন, কর্মচারী খোরশেদ আলম রিপন, মিজান এবং চক্রের অপর সদস্য আশরাফ হোসেন রাজু, খায়েজ আহমেদ আরিফ ও বড় রাজু নামে সাতজনকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল।
আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা বিদেশি মদ জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া আমদানি ঋণপত্র (এলসি) সৃজন পূর্বক রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সার্ভার এনবিআরের নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড হ্যাক করে বন্দর থেকে পণ্য খালাসের অপচেষ্টা করে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এক্ষেত্রে আসামিরা কাস্টমস ও বন্দরের সার্ভারে অবৈধ অনুপ্রবেশে টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে শেখ সেজান তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা ব্যবহার করে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড ও সিপিএ পোর্টালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে অন্যের ইউজার আইডির অননুমোদিত ব্যবহার, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং প্রতারণামূলক কাস্টমস কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
শেখ সেজানের বাড়ি (২৬) নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানাধীয়। তাকে ধরতে ইতোপূর্বে সেখানেও অভিযান চালানো হয়েছিল।
Leave a Reply