স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকায় জুলাই বীর সম্মাননা হিসেবে ১২০০ নিহত ও আহত পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকা করে ৬ কোটি টাকার চেক তুলে দেন জেএএম সংস্থা নামের একটি প্রতিষ্ঠান। গত ৭ জানুয়ারি ঢাকায় বিশাল অনুষ্ঠান করে চেক ও ক্রেষ্ট বিতরণ করলেও এখনো চেকের টাকা বুঝে পাননি জুলাইযোদ্ধারা। জেএএম সংস্থার দেওয়া পূবালী ব্যাংকের চেকগুলো ব্যাংকে জমা দিলে একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় বাউন্স হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চেক পাওয়া যোদ্ধারা।
গত ৭ জানুয়ারি ঢাকার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’ অনুষ্ঠান করে জুলাই আন্দোলনে নিহত, আহত ও ভূমিকা রাখা গেজেটভুক্ত ১২০০ জনকে ক্রেস্ট ও ৫০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক তুলে দেন বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেএএম সংস্থার চেয়ারম্যান মেহরীন আনহার উজমা। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ সিগবাহ।
গতকাল বৃহস্পতিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে এক জুলাই যোদ্ধা বলেন, অনুষ্ঠান করে চেক বিতরণ করলেও চেকের টাকা গত তিন সপ্তাহ ধরে নগদে তুলতে পারছি না। জুলাই যোদ্ধারা আসলাম চৌধুরী বিষয়টি জানালেও তিনি দিয়ে দিচ্ছেন করে করে এখনো পাচ্ছি না। বৃহস্পতিবার ব্যাংকে গিয়ে আমরা জানতে পারছি পূবালী ব্যাংকের যে একাউন্টের চেক দিয়েছে সেই একাউন্টে মাত্র ১৬ হাজার টাকা রয়েছে। অথচ সবমিলিয়ে ১২০০ জনের জন্য ৬ কোটি টাকার চেক বিতরণ করেছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জানতে আসলাম চৌধুরীর মোবাইলে ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সীতাকুন্ড প্রেস ক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় আসলাম চৌধুরী বলেন, আমরা অনেক জুলাইযোদ্ধাকে অনুদান দিয়েছি। কিন্তু চেকগুলো এখনো কেস করাইনি। এখালো ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে সবাই কেস পাবেন। ১১. ১২, ১৩ ফেব্রুয়ারি সবাই পেয়ে যাবে। মার্চে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।
আসলাম চৌধুরীর নির্বাচন পরিচালনা (মিডিয়া) কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ইতিমধ্যে কয়েকটি চেক পাস হয়েছে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির পরে করা হবে।
চেক পাওয়া কয়েকটি পরিবার জানান, চেকগুলো কেস না হওয়ায় আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ১৬ জানুয়ারি ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু ১৮ জানুয়ারি ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, হিসাবে মাত্র ২০ হাজার টাকা রয়েছে। এরপর থেকে আজ-কাল-পরশু করে সময় নেওয়া হয়। এতে সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলো বারবার ব্যাংকে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে। পরে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে টাকা না দিলে আন্দোলনের ডাক দেওয়ার কথা জানানো হলে ৩ ফেব্রুয়ারি টাকা জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সেদিনও ব্যাংকে গিয়ে চেক বাউন্স হয়। সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সবাইকে আবার ব্যাংকে যেতে বলা হয়। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টায় গিয়ে দেখা যায়, হিসাবে মাত্র ১৬ হাজার টাকা রয়েছে।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। আদালত বলেন, আসলাম চৌধুরী নির্বাচন করতে পারবেন, তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত থাকবে এবং ফল প্রকাশ হবে না। এর আগে ৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হয়। জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী অভিযোগটি করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকও পৃথক আপিল করে।
Leave a Reply