চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
রাত পোহালেই নির্বাচন। চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিপুলসংখ্যক ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। নগর ও জেলা মিলিয়ে বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৪০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, আনসার সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ৪০ হাজার সদস্য মাঠে এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভোটকেন্দ্রগুলোর অবস্থান, প্রবেশপথ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিত্রে দেখা যাচ্ছে মিশ্র অবস্থা। কোথাও সরু গলি ও দূরবর্তী প্রবেশপথ নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পৌঁছানোকে কঠিন করে তুলতে পারে, আবার প্রশাসন বলছে কেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট কেন্দ্রে মহড়া ও টহল দিয়েছে সেনাবাহিনী। চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ।
এদিকে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল সোমবারের মধ্যেই সব আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর আগে জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে ভোট গ্রহণের অন্যান্য উপকরণও পাঠানো হয়।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে ব্যালট পেপার ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বুধবার, অর্থাৎ ভোটের আগের দিন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হবে। ওই দিনই প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে এসব সামগ্রী বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এর পরদিন বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে নির্বাচনে মোট ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৯১টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নগর এলাকায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৩১২টি। অন্যদিকে জেলার ১৩টি আসনে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৩৪৪টি। ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, প্রার্থীর বাসস্থানের দূরত্ব, গোলযোগের শঙ্কাসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মহানগর, জেলার এলাকা এবং পার্বত্য ও দুর্গম অঞ্চলের ভোট কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ ও ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) মো. রাসেল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফোর্স থাকবে। পাশাপাশি আমাদের আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা আছে। জেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ৯৯৯টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।’
এবার চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১১৫ জন প্রার্থী। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৭ জন, নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬০ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৭০ জন। এবার জেলায় ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকবেন। মোট ভোটকক্ষ রয়েছে ১২ হাজার ৬০১টি।
Leave a Reply