চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে আট বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নাঈম ইরাকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে খুনের মামলার আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়ার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর দন্ডিত আসামি বাবু শেখকে কারাগারে পাঠানো হয়। বাবু গাইবান্ধার জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, শিশু ইরাকে হত্যার দায়ে দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামি বাবু শেখকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৭ ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং একই আইনের ৯(৪)(খ) ধারায় ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল।
গত ১ মার্চ সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকায় শিশু ইরাকে খুন করা হয়। চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইরাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় আসামি। পরে সীতাকুন্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। ঘটনা গোপন রাখতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির গলা কেটে পালিয়ে যায় আসামি। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ মারা যায় শিশুটি। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে সীতাকুন্ড থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত ১৫ জুন আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। গত ১৮ জুন আদালত অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যা ধারায় অভিযোগ গঠন কওে বিচার শুরু করেন। রাষ্ট্রপক্ষ ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। গত ২ জুলাই উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করেন। ইরা সীতাকুন্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ার টমটমচালক মনিরুল ইসলামের মেয়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ইরার মা রোকেয়া বেগম বলেন, আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি। আমার মেয়েকে আত্মা শান্তি পাবে। দ্রুত তার ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই।
Leave a Reply