চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিকট ইজারা প্রদানের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে জাতীয় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম। গতকাল বৃহস্পতিবার বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার মজুমদার এবং সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এই বন্দরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। ফলে বন্দরের মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার প্রশ্ন কেবল একটি বাণিজ্যিক বিষয় নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতি, নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
তারা বলেন, এনসিটি ও সিসিটি বাংলাদেশের জনগণের অর্থায়নে নির্মিত জাতীয় সম্পদ। এসব টার্মিনাল কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে দেশীয় ব্যবস্থাপনাতেই সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে এনসিটি ধারাবাহিকভাবে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করছে। সুতরাং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার কোনো অর্থনৈতিক বা পরিচালনাগত যৌক্তিকতা নেই।
বন্দর রক্ষা কমিটি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ না দিয়ে অতীতে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তবর্তী সরকারের অনুসৃত নীতির ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বন্দরের কৌশলগত টার্মিনালসমূহ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ডিপি ওয়ার্ল্ড বা অন্য কোনো দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়া হলে তা দেশের সচেতন জনগণ কখনো মেনে নেবে না।
তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, ইস্টার্ন রিফাইনারি, জ্বালানি সংরক্ষণাগারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনা অবস্থিত। ফলে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালসমূহের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে জনগণের মতামত ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল, পানগাঁও টার্মিনাল এবং অন্যান্য বন্দর সংশ্লিষ্ট চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। জাতীয় সম্পদের বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রেখে কোনো চুক্তি করা হলে তা জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করে। তাই বন্দর সংশ্লিষ্ট সকল চুক্তি অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে। জাতীয় স্বার্থবিরোধী যেকোনো অশুভ তৎপরতা ও গোপন সমঝোতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে জাতীয় মালিকানা, জাতীয় নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় নিরাপত্তার আওতায় সংরক্ষণ করতে হবে।
Leave a Reply